নিউজ ডেস্ক॥ একটি পৌরসভাসহ বারোটি ইউনিয়ন নিয়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা গঠিত। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগের দুইজন শীর্ষ নেতা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত মো.রাশিদুল বাশার ডলার (নৌকা) প্রতিক, উপজেলা আ‘লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু (বিদ্রোহী),উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু (বিদ্রোহী) ও উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও নলদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মোল্যা (সতন্ত্র) প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন।
শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু ১৯৭০ সালে লাহুড়িয়া হাইস্কুলের ছাত্রলীগের সদস্য ও পরে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের মাধ্যমে বর্নিল রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৭ সালে বৃহত্তর যশোর জেলা আওয়ামী যুবলীগের কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সাল থেকে ১৫ বছর লাহুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়ীত্ব পালন করেছেন। ১২ বছর উপজেলা আওয়ামীগের সাধারন সম্পাদক এবং প্রায় পাঁচ বছর সভাপতির দায়ীত্ব পালন করছেন। ১/১১-সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল সুদৃঢ় ও সুসংহত করেছেন এই বর্ষিয়ান নেতা।
অপরদিকে
সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটুর পূর্বসুরি সৈয়দ জবান আলী টানা ছাব্বিশ বছর মধুখালী ও বনমালী পরগোনার তৎকালিন জমিদার ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তার পিতা সৈয়দ আশরাফ আলী চৌত্রিশ বছর করেছেন জমিদারী। এবং দুইবার ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দশবছর নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়ীত্ব পালন করেছেন তিনি। ফয়জুল আমীর লিটু নোয়াগ্রাম প্রাইমারী শেষ করে স্থানীয় ছত্রহাজারী হাইস্কুল থেকে ১৯৮৩ সালে এসএসসি পাস করে নড়াইল ভিক্টোরিয়া,খুলনা বিএল ও ঢাকা বাংলা কলেজে লেখাপড়ার পাশে ভিপি নির্বাচন করে ১৯৯১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন। তিনি ১৯৯১ সালে নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক এবং দু’বার নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৪ সাল থেকে দশ বছর উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০১৪ সালে সাধারন সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়ীত্ব পালন করে আসছেন।
আসাদুজ্জামান মোল্যা, দীর্ঘদিন নলদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং উপজেলা কৃষকদলের সাধারন সম্পাদক ও ২০০৮ সাল থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়ীত্ব পালন করে আসছেন। তিনি টানা দু’বারের অধিক সময়ে নলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পাঁচ বছর জেলা চেয়ারম্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক ছিলেন। তিনি দারিদ্র বিমোচন, সমাজ সেবা ও শান্তিতে স্বর্নসহ অসংখ্য পদকে ভূষিত।
রাশিদুল বাশার ডলার ‘উপজেলার পাচুড়িয়া গ্রামের সন্তান হলেও তিনি এলাকায় তেমন একটা পরিচিত নন। অধিকাংশ সময় সম্পৃক্ত থেকেছেন ঢাকার কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল বিষয়ে স্মাতক ও স্মাতকোত্তর লাভ করেন। তখন এসএম হলের শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারন সম্পাদকের দায়ীত্ব পরবর্তি আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটি এবং নড়াইল জেলা আ’লীগের সদস্য লাভ করেন। এলাকার রাজনীতি ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক,বিলবোর্ড ও ফেসটুনে সিমাবদ্ধ। অধিকাংশ ভোটারের কাছে তিনি একেবারেই নতুন মুখ। হোটেল রেস্টুরেন্ট ও চায়ের দোকানে আ’লীগ দলীয় সমর্থিত রাশিদুল বাশারকে নিয়ে নির্বাচনী বিতর্কের ঝড় বহে। সাধারন ভোটার মনে করেন, লোহাগড়ায় আ’লীগের মাঠের রাজনীতিতে অনেকের অবদানের মাঝে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি-সম্পাদক অন্যতম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভোটার বলেন,বিগত জেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফলের ন্যায় হতে পারে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। উল্লেখ্য আগামী ২৪ মার্চ এ উপজেলায় ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগের দুই শীর্ষ নেতা"