নিউজ ডেস্ক: নারী জাগরণের অগ্রদূত কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী আজ। আমৃত্যু মুক্তবুদ্ধির চর্চার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিপক্ষে সংগ্রাম করেছেন তিনি। সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামেও রেখেছেন সোচ্চার ভূমিকা।
১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে সুফিয়া কামালের জন্ম। তার পিতার নাম সৈয়দ আবদুল বারী এবং মায়ের নাম সৈয়দা সাবেরা খাতুন। ১৯১২ সালে তার বাবা সাধকদের অনুসরণে নিরুদ্দেশ যাত্রা করেন। ফলে তার মা সাবেরা খাতুন অনেকটা নিরুপায় হয়ে বাবার বাড়ীতে এসে আশ্রয় নেন। এই কারণে সুফিয়া কামালের শৈশব কাটে নানা বাড়ীতে।
সে সময় মুসলিম মেয়েরা শিক্ষা-দীক্ষায় ছিল পশ্চাৎপদ। শায়েস্তাবাদে নানাবাড়ির রক্ষণশীল পরিবেশে বড় হলেও তার মনোগঠন হয়েছে দেশের মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতির ছায়ায়। পারিবারিকভাবে বাড়িতে উর্দু শিক্ষার চল থাকলেও তিনি নিজ উদ্যোগে বাংলা শিখে নেন।
সুফিয়া কামালের জন্মদিনে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এতে তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল নারী সমাজকে কুসংস্কার আর অবরোধের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের নারী সমাজের একক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় আদর্শ।
সুফিয়া কামালের জন্মদিন উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে তিনি বলেন, সুফিয়া কামাল ছিলেন একদিকে আবহমান বাঙালির নারীর প্রতিকৃতি ও মমতাময়ী মা; অন্যদিকে বাংলার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল তার আপোসহীন দৃপ্ত পদচারণা।
সাহিত্যে তার সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনি আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে। সুফিয়া কামালের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট জন্মদিনে স্মরণ করবে সুফিয়া কামালকে।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সুফিয়া কামাল পেয়েছেন একুশে পদকসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর সুফিয়া কামালের জীবনাবসান ঘটে। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ২৮ নভেম্বর তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

Be the first to comment on "সুফিয়া কামালের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী আজ"