নিউজ ডেস্ক : নির্বাচন কমিশন গঠনে তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাষ্ট্রপতি। সোমবার বঙ্গভবনে বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাসদের একাংশ ও বাসদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিন দলের পক্ষ থেকে ইসি গঠনে ১৭ দফা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
বিকল্পধারা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে সাত দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে। দলটির প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিকল্পধারার বৈঠক নির্ধারিত ছিল ৭ জানুয়ারি। কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর অসুস্থতার কারণে বৈঠকের তারিখ ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় পুননির্ধারণ করা হয়। বি, চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রউফ মান্নান, মাহবুব আলী, অ্যাডভোকেট শাহ আহম্মেদ বাদল, ড. কাজী কামাল, বেগ মাহতাব, ওয়াসিমুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট খন্দকার জোবায়ের হোসেন, শিপ্রা রহীম, মাহফুজুর রহমান, ওবায়েদুর রহমান মৃধা, মহসিন চৌধুরী, বিএম নিজাম প্রমুখ।
সাত দফা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩ ) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমাবদ্ধ থাকায় অন্য ব্যাপারে (নির্বাচন কমিশন নিয়োগসহ) রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী যাদের নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ করতে চান তাদের নাম প্রকাশ করা, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন করা, সকল বিরোধী দলকে নিয়ে নির্বাচনকালীন একটি জাতীয় সরকার গঠন করলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভবনা বাড়বে। একই সাথে এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনাও বাড়বে।
নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের নাম প্রস্তাব করবেন, সেই তালিকায় একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি, একজন সাবেক সেনাপ্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব, একজন প্রখ্যাত মহিলা সমাজ কর্মী ও একজন প্রখ্যাত পেশাজীবী রাখা জরুরী। এছাড়াও নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি আইন প্রণয়ন করা, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আপিল করলে ৬ মাসের মধ্যে মামলা নিস্পত্তি করার জন্য আইন প্রণয়ন করারও প্রস্তাব দিয়েছে বিকল্পধারা।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আলোচনায় সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থার উপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ইসি গঠনে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে জাসদের একাংশ ও বাসদের একাংশের সঙ্গে বৈঠকে এই মত তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধান। এদিন বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রথমে শরীফ নুরুল আম্বিয়া নেতৃত্বাধীন জাসদের ১২ সদস্েযর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন আবদুল হামিদ।
বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের উপর সাধারণ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব ও মতামত এ লক্ষ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বাসদের সঙ্গে সংলাপে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্য জরুরী।
সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠনে দলের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে জাসদ। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে অগ্রসর করতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের প্রশংসাও করেছে দলটি। প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বলেন, “জাসদ প্রতিনিধি দল সাংবিধানিক সংস্থার প্রধান এবং সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় একাধিক ধাপে কমিশনার নিয়োগের প্রস্তাব দেয়। সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি বিশ্বস্ততা ও নিরপেক্ষতাকে যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করেছে জাসদ। জাসদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মইন উদ্দিন খান বাদল, মুশতাক হোসেন, নাজমুল হক প্রধান প্রমুখ।
খালেকুজ্জামান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) দলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠনে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। জয়নাল আবেদীন সংবাদিকদের বলেন, বাসদ প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের পাশাপাশি জাতীয় বাজেটে কমিশনের জন্য পৃথক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। বাসদ নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সংবিধানের চার মূলনীতিতে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করেছে। নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করেছে দলটি। বাসদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজেকুজ্জামান রতন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, রওশন আরা রুশো, শম্পা বসু প্রমুখ।

Be the first to comment on "নির্বাচন কমিশন গঠনে তিন দলের ১৭ দফা প্রস্তাব"