স্বাস্থ্য ডেস্ক: গর্ভধারণ হয়েছে কি হয়নি সেটা বুঝতে বেশিরভাগ মহিলারাই নির্ভর করেন পিরিয়ডসের উপর। পিরিয়ডস না হলে ভয়, হলে নয়, ব্যাপারটি কিন্তু অতটাও সোজাসাপ্টা নয়। প্রেগনেন্সিতেও পিরিয়ডস হতে পারে।
নিয়মিত যৌন সম্পর্কে রয়েছেন অথচ পিল খান না এমন মেয়েরা অনেক সময়েই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার আশঙ্কায় থাকেন। একটা প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে পিরিয়ডস ঠিকঠাক সময়ে যদি হয় তবে গর্ভধারণ হয়নি এবং পিরিয়ডস মিস হলে তবেই সেটি চিন্তার কারণ।
সচরাচর পিরিয়ডস মিস হলে তার পরেই মেয়েরা প্রেগনেন্সি কিট কিনে পরীক্ষা করেন বা ইউরিন টেস্ট করেন। প্রেগনেন্সি অবাঞ্ছিত হলে তার পরে গর্ভপাতের জন্য চিকিৎসকের সাহায্য নেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে পিরিয়ডস হওয়া মানেই প্রেগনেন্সি নেই এই ধারণাটি ভুল।
প্রেগনেন্সির প্রথম তিনমাস, যাকে ফার্স্ট ট্রাইমেস্টার বলে, সেই পর্যায়ে পিরিয়ডস চালু থাকতে পারে। ২৫ শতাংশ গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যেই এই বিষয়টি দেখা যায়। এটি মোটামুটিভাবে স্বাভাবিক বলেই ধরা হয় কিন্তু অতিরিক্ত ব্লিডিং হলে তা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। সেক্ষেত্রে মিসক্যারেজের আশঙ্কা থাকে।
তাই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার চিন্তায় যাঁরা থাকেন এবং প্রতি মাসে পিরিয়ডস দেখে যাঁরা নিশ্চিন্ত হন, তাঁদের এই বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। প্রতি মাসেই নির্দিষ্ট সময়ে প্রেগনেন্সি কিট কিনে পরীক্ষা করে নেওয়াই ভাল। কারণ প্রেগনেন্সি যদি অবাঞ্ছিত হয় তবে যত দেরি করে তা ধরা পড়বে ততই গর্ভপাত করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
তাছাড়া মনে রাখা দরকার প্রেগনেন্সি ২০ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে ভারতীয় আইন মতে আর গর্ভপাত করা যায় না। এতে মায়ের মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। আবার প্রেগনেন্সি একমাস বা দেড়মাসের হলে অপারেশন ছাড়াই শুধুমাত্র মেডিসিন দিয়ে গর্ভপাত করা সম্ভব।

Be the first to comment on "গর্ভধারণ করা সত্ত্বেও পিরিয়ডস হতে পারে!"