নিউজ ডেস্ক : পেনশনের ফাইল ছাড়ার জন্য সাবেক কর্মকর্তার কাছে ঘুষ দাবি করেছিলেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) দুই কর্মচারী। ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ওই দুই কর্মচারীকে আটক করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ওই কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলীকেও আটক করে সংস্থাটি।
আজ বুধবার চট্টগ্রামের নন্দনকাননে অবস্থিত বিটিসিএলের কার্যালয় থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন বিটিসিএলের নন্দনকানন কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রদীপ দাশ, প্রধান সহকারী মো. গিয়াস উদ্দিন ও টেলিফোন অপারেটর মো. হুমায়ুন কবির।
দুদক সূত্র জানায়, বিটিসিএলের সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম ভূঁইয়া ছয় মাস আগে চাকরি থেকে অবসর নেন। কিন্তু এরপর তাঁর পেনশনের ফাইলটি তৈরি করে দিতে গড়িমসি করছিলেন প্রধান সহকারী গিয়াস উদ্দিন। সম্প্রতি এই কাজের জন্য ঘুষ দাবি করেন গিয়াস ও হুমায়ুন কবির। বিষয়টি সম্পর্কে আবুল কাশেম দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে অভিযোগ জানান। তখন দুদক কর্মকর্তারা গিয়াস ও হুমায়ুনকে হাতেনাতে ধরার পরিকল্পনা করে ফাঁদ পাতেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবুল কাশেম নন্দনকানন কার্যালয়ে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান। টাকা নেওয়ার সময় দুদকের উপসহকারী পরিচালক মানিক লাল দাশের নেতৃত্বে দুদকের একটি দল হাতেনাতে দুজনকে আটক করে।
দুজনকে আটকের পর প্রধান সহকারীর কক্ষ তল্লাশি করে তাঁর ড্রয়ার ও আলমারি ও রেজিস্ট্রার বইয়ের ফাঁক থেকে নগদ ৮০ হাজার টাকা ও ৮৩ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র উদ্ধার করা হয়। এরপর টেলিফোন অপারেটরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বিভাগীয় প্রকৌশলীর কক্ষেও তল্লাশি চালানো হয়। ওই কক্ষের আলমারি থেকে নগদ ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ও দুই লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র উদ্ধার করা হয়। বিভাগীয় প্রকৌশলী এই অর্থের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করলেও দুদক কর্মকর্তারা তাঁকেও আটক করেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চালানোর সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির রহমান উপস্থিত ছিলেন। আটকের পর বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রদীপ দাশ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এ ঘটনার কিছুই জানি না। কক্ষের সব চাবি কর্মচারীদের কাছে থাকে। তাঁরাই কক্ষের আলমারি ব্যবহার করেছেন।’
দুদক চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ফাঁদ পেতে দুজনকে ধরার পরিকল্পনা করি। দুজনকে আটকের পর তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ ও সঞ্চয়পত্র পাওয়া গেছে। বিভাগীয় প্রকৌশলীর কক্ষ থেকেও টাকা পাওয়া গেছে। এই তিনজনকে থানাহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

Be the first to comment on "দুদকের ফাঁদে বিটিসিএলের তিন কর্মকর্তা"