নিউজ ডেস্ক : পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন ক্যাশিয়ার জায়েদা খানম। টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জায়েদা খানমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া আত্মসাতকৃত অর্থের প্রকৃত পরিমান, সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারন করার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপর দিকে হিসাব রক্ষক গত কাল থেকে গা-ঢাকা দিয়েছে। থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সমিতি সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অগ্রনী ব্যাংক, পটুয়াখালী পুরান বাজার শাখায় সমিতির এসটিডি হিসাব নং-১৫ এর হিসাবে জমাকৃত টাকার হিসাব জানতে যোগাযোগ করেন ৩১ মার্চ সমিতির হিসাব রক্ষক মোঃ তরিবুল্লাহ আকন্দ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত একাউন্টে চার কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ৮৩৫ টাকা জমা রয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হলে হিসাব রক্ষক তরিবুল্লাহ আকন্দ তাৎক্ষনিক ভাবে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত এক মাস আগে ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাব বিবরনী নিয়ে ব্যাংকে যোগাযোগ করলে ব্যংকের হিসাব বিবরনীটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করেন। ক্যাশিয়ার জায়েদা ২০০৫-২০০৬ সাল থেকে ব্যাংকের সীল-স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া ব্যাংক ডিপোজিট রশিদ ও ব্যাংকের হিসাব বিবরনী তৈরি করে সমিতির হিসাব শাখায় জমা দিতেন বলে আদেশে বলা হয়।
সমিতি থেকে আরো জানা যায়, ক্যাশিয়ার জায়েদা খানমের জমাকৃত ফেব্রুয়ারি ২০১৬ মাস পর্যন্ত ব্যাংকের হিসাব বিবরনীতে ১০ কোটি ৮৯ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ টাকা দেখিয়েছেন অফিসে। অথচ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত তাদের ব্যাংকের হিসাব বিবরনীতে রয়েছে চার কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ৮৩৫ টাকা। সে অনুযায়ী সমিতির ৬ কোটি ৪৬ লাখ ৬২ হাজার ৭১২ টাকা ব্যাংকে কম প্রদান করা হয়েছে।
সমিতির ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত থেকে আদায়কৃত সম্পূর্ণ পরিমান অর্থ ব্যাংকে জমা প্রদান না করে নিজে আত্মসাত করায় ৩১ মার্চ থেকে বিকেল থেকে ক্যাশিয়ার জায়েদা খানমকে চাকরি থেকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে ক্যাশিয়ার জায়েদা খানম বর্তমানে কলাপাড়ায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি গত ২ মার্চ সমিতির মহাব্যাবস্থাপক বরাবরে লিখিত ভাবে অর্থ গরমিলের কথা স্বীকার করেছেন। এতে তিনি বলেন, পটুয়াখালী সদর দপ্তরে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে যে আর্থিক অনিয়ম করেছেন তা আস্তে আস্তে পরিশোধ করার চেষ্টা করবেন বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে উল্লেখিত আত্মসাৎ হওয়া অর্থের প্রকৃত পরিমান, আত্মসাতের সাথে জড়িত সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারন ও ব্যাংকের দায়বদ্ধতার বিষয়টি তদন্ত করতে বাউফল জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যাস্থাপক মোঃ আবু বকর ছিদ্দিককে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিট গঠন করা হয়েছে।

Be the first to comment on "পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৬ কোটি টাকা আত্মসাত করে ক্যাশিয়ার উধাও"