নিউজ ডেস্ক : এস.আলম গ্রুপ ও চায়না কোম্পানীর যৌথ উদ্যোগে নির্মিতব্য কয়লা বিদ্যুৎকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা এলাকায় পুলিশের সাথে এলাকাবাসী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত্য ৫ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছে বলে দাবী করেছে এলাকাবাসী। সোমবার বিকাল ৪টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে পুলিশের ওসি, পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ অন্তত ৬০ গ্রামবাসী আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে কমপক্ষে ৫০০ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বাঁশখালী উপজেলার সর্বত্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মুহুর্তে আরও বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার গন্ডামারা হাজীর পাড়া এলাকায় এস.আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুতের পক্ষে বিপক্ষে দুটি গ্রুপ সমাবেশ ডাকে। সেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামসুজ্জামান ও সহকারী পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) কে.এম এমরান ভুঁইয়া ও থানা অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার মজুমদার শতাধিক পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে ১৪৪ জারীর উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় যান। পুলিশ সদস্যের উপস্থিত টের পেয়ে কয়লা বিদ্যুৎ বিরোধী সংগঠন ও এলাকাবাসী রাস্তায় ব্যরিকেড দিয়ে আটকে দেয়।
পুলিশ ব্যারিকেড তুলে নিতে গেলে বাঁধে সংঘর্ষ। সংঘর্ষ একপর্যায়ে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার এলাকার নারী পুরুষ রাস্তায় নেমে এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল ছুটতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ প্রথমে ফাঁকা গুলি ও পরে গুলি ছোড়ে। গ্রামবাসীও পুলিশের পাল্টা জবাব দেয় গুলিতে। উভয় পক্ষে কমপক্ষে ৫০০ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এলাকাবাসী সংঘর্ষে পুরো এলাকা রনক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ৫ জন গ্রামবাসী নিহত হওয়ার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। নিহতদের নাম উল্লেখও করেন গ্রামবাসীরা। তারা হলেন- মর্তুজ আলী (৫০), আনোয়ার হোছেন (৪০), জাকের (৫০), বদিউল আলম, আঙ্গুর মিয়া দাবী এলাকাবাসীর। তাছাড়া সংঘর্ষে ওসি সহ পুলিশের ৯ সদস্য ও আনসারের ৩ সদস্য সহ ৬০ গ্রামবাসী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকে গুলিবিদ্ধ। গুলিবিদ্ধদের এলাকা হতে নৌপথে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় এক গ্রাম চৌকিদার সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে এই সংঘর্ষের খবর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকার মধ্যেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পুলিশ সংঘর্ষ এড়াতে চট্টগ্রাম শহর হতে দুই শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এলাকায় মোতায়েন করেছে। বর্তমানে গন্ডামারা এলাকার গ্রামবাসীরা পুলিশী নির্যাতনের ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছে। তাই সাধারণ গ্রামবাসী সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Be the first to comment on "বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে পুলিশ-এলাকাবাসীর সংঘর্ষে রনক্ষেত্র বাঁশখালী"